বৃষ্টি নিয়ে সুখবর দিলো আবহাওয়া অফিস - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বৃষ্টি নিয়ে সুখবর দিলো আবহাওয়া অফিস

বৃষ্টি নিয়ে সুখবর দিলো আবহাওয়া অফিস

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের। ঢাকাসহ অন্তত ৪০টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। প্রখর রোদ আর তপ্ত বাতাসে জনজীবন প্রায় ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি।

 

তবে কিছুটা স্বস্তির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে, যার ফলে কমতে পারে গরমের তীব্রতা।

 

বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘমুক্ত, আর রোদের তাপ ছিল বেশ প্রখর। দুপুরের পর ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে ফুটপাত—সবখানেই গরমের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে তা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এল নিনোর প্রভাবে দেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। এতে বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

 

তিনি আরও জানান, দেশজুড়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত শুরু হলে গরমের তীব্রতা কমে আসবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।


রাজধানী ঢাকাসহ ৯টি জেলার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্রবাজার জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

 

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঢাকাসহ ৯ জেলায় দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হলেও এর প্রভাবে টানা তৃতীয় দিনের মতো জোয়ারে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি গ্রামসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

 

শুক্রবার দুপুরে জোয়ারে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা উপজেলার চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আঙিনা তলিয়ে যায়। অনেক পরিবারের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল লঘুচাপে পরিণত হলেও পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি না থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। এর সঙ্গে ছিল মৃদু দমকা হাওয়া।

 

দুপুরের জোয়ারে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, চালিতাবুনিয়া বাজার ও চিনাবুনিয়া এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রাম প্লাবিত হয়। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায় জোয়ারের পানির উচ্চতা কিছুটা কম ছিল।

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধের কারণে অস্বাভাবিক জোয়ার হলেই লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে প্রতি বছরই একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. খায়রুল হাসান বলেন, জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে প্রায় ৩ কিলোমিটার এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা এলাকায় প্রায় ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত রয়েছে। ফলে জোয়ারের পানি বাড়লেই এসব এলাকায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, আইডব্লিউএমের মাধ্যমে নতুন একটি প্রকল্পের সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) জমা দেওয়া হবে। ডিপিপি অনুমোদিত হলে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ।

তৃতীয় দিনের জোয়ারেও রাঙ্গাবালীর ছয় গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সোমবার (১৩ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বন্যা সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকায় বর্তমানে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ এই সাত জেলায় মোট ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

প্রাণ হারানো ৫৪ জনের মধ্যে ৩১ জনই মারা গেছেন কক্সবাজারে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩, বান্দরবানে ৬, রাঙামাটিতে ৩ ও মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারিভাবে ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

বন্যা ও পাহাড় ধসে সাত জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা অতিভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীর বাম তীরের জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৬টার তথ্য অনুযায়ী দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপদসীমা চেয়ে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারতের উজানে থেকে আসা পানি এবং গত কয়েক দিনের টানা অতিভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপরে থাকা পানি মঙ্গলবার সকালেই বেড়ে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে পৌঁছেছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকছে। চরাঞ্চলের অনেক এলাকায় নৌকা ও ভেলাই হয়ে উঠেছে মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র বলছে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 

ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের চরের বাসিন্দা সামসুল আলম বলেন, ‘সোমবার থেকে পানি বাড়লেও আজ সকালে আরও বেড়েছে। কয়েকটি বাড়িতে ইতোমধ্যে পানি উঠেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বড় বন্যা হতে পারে। তখন দুর্বল বাঁধগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

 

শৈলমারী চরের মফিজুর রহমান বলেন, ‘উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টির কারণে প্রতিবছরই আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় সামান্য পানি বাড়লেই চরাঞ্চল তলিয়ে যায়। দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার।’

 

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মনদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছেও পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিস্তার পানি বাড়ছে হু হু করে, বন্যার আশঙ্কা

আজ ভোর ৫টা থেকেই ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছে। থেমে থেমে এই বৃষ্টি চলছে। রাজধানীর অনেকে রাস্তায় এরই মধ্যে পানি জমে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে এসব রাস্তায়। পথচারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

 

আজ রোববার (১২ জুলাই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে রাজধানীবাসীর ঘুম ভেঙেছে বৃষ্টির শব্দে। বৃষ্টিতে মিরপুর, মতিঝিল, নয়াপল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এ কারণে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়ে।

 

এদিকে, কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে কোথাও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে গত ছয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ। এছাড়া টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৪২ কিলোমিটার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

 

এদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্ভাবাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ভোর থেকেই ঢাকায় বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ

টানা ৪ দিন ধরে সমুদ্র উপকূলবর্তী চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুরোটাই পানির নিচে। বন্যাকবলিত এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে। পানিবন্দি শত শত পরিবার। অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, তলিয়ে গেছে সড়ক, ফসলি জমি। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিহীন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নে একটি যৌথ পরিবারের মাটির ঘরটি ছিল মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই। সেখানে ৫ পরিবারের সদস্যরা থাকতেন। কিন্তু বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে ডুবে আছে ঘরটি। এমনকি ভেসে গেছে আসবাবপত্র।

 

ঠিক এই পরিবারের দুর্দশার মতো বন্যাকবলিত ছনুয়া ইউনিয়নের বেশির ভাগ পরিবারের মাটির ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার গৃহহীন। খোলা আকাশ এখন তাদের ঠিকানা। কেউবা মাথা গোঁজার জন্য ছুটছেন উঁচু স্থান ও আশ্রয়কেন্দ্রে।

 

চট্টগ্রামে বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর অন্যতম বাঁশখালী এলাকার অনেক ঘরবাড়ি হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে থাকায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি। এখনও ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় অসহায় এসব মানুষের দিন কাটছে কষ্টে।

 

অন্যদিকে, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ভেসে গেছে ঘেরের মাছ। ক্ষতির মুখে ধান ও লবণচাষিরা।

 

এছাড়াও বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঁশখালীতে পুঁইছড়ি, শেখের খিল, কাথারিয়া ও গণ্ডামারা-সহ ৫/৬টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুরো এলাকা পানির নিচে, মানুষের দুর্ভোগ চরমে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

১৩ আগষ্ট ২০২৬’ তারিখ সকাল ১১ টায় গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চের উদ্যোগে বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৬ আগষ্ট গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মঞ্চের সদস্য সচিব শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব মোঃ সফিকুল ইসলাম, কামরুন নাহার, তপন সাহা, কামরুজ্জামান ফিরোজ, আবু কালাম, মিজানুর রহমান শিকদার, সাজিয়া রহমান, মাহমুদা হোসেন মিলি প্রমূখ।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার পে-স্কেল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে চরম বৈষম্যে সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র কতখানি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে তার প্রমাণ হচ্ছে পে-স্কেল। ঘোষিত পে-স্কেলে একজন সচিব এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা অপর দিকে একজন অফিস সহকারী (পিয়ন) তার বেতন ধরা হয়েছে ৪১ হাজার টাকা। অথচ যারা উৎপাদন করে সেই শ্রমিক বিশেষকরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরী হচ্ছে ১২ হাজার ৫ শত টাকা। এর মধ্য দিয়ে সরকার সমাজে প্রবল বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এই বৈষম্য দুর করতে শ্রমিকের জন্য জাতীয় নিম্নতম মজুরী ৩০ হাজার টাকা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করে শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরী ঘোষণা করতে হবে। বর্তমান উর্দ্ধমূখী বাজার ব্যবস্থায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে মজুরী পান তা দিয়ে তাদের জীবন চলেনা। ফলে শিল্পের শ্রমক অসন্তষ লেগেই রয়েছে। শিল্পের উৎপাদনের সুষ্ঠ পরিবেশ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী বৃদ্ধির বিকল্প নাই। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিগত ২০২৩ সালের ঘোষিত মজুরী আগামী নভেম্বরে শেষ হয়ে যাবে। ডিসেম্বর ২০২৬ সাল থেকে নতুন মজুরী কার্যকর হওয়ার কথা। এখন মাত্র চার মাস সময় আছে সরকার কাল বিলম্ব না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করতে হবে এবং বোর্ডের গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের মধ্য থেকে নির্বাচিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত দাবিতে আগামী ১৬ আগষ্ট মাননীয় শ্রমমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে। একই সাথে উক্ত স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে অবগতির জন্য পাঠানো হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিপিসি-৩ গাইবান্ধা র‌্যাব-১৩ ক্যাম্পের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এই সচেতনতা মুলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিপিসি-৩ ও র‌্যাব-১৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ রেজাউল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাজহারুল মান্নান । এছাড়াও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেড় ঘন্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়।

 

মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি সহ সকল পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে বিপদগামী মাদকাসক্ত তরুণদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনায় মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনাসহ মাদক ও সামাজিক অপরাধ নির্মুলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।

 

সভা শেষে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহনকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরন করা হয়।

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আত্মসমর্পন করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। আজবৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিশা। শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক।গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল।

 

জামিন পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তানজিন তিশা বললেন, ২৭ হাজার টাকার একটা শাড়ি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার ১৫ বছরের একটা ক্যারিয়ার। এটা কারোর কাছে কাম্য নয়, একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসবো। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আদালতে এসেছি। তবে মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণা এমন কিছুই করিনি।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটা কথা বলতে চাই, মামলার বাদী একজন নারী। তিনি নিজের স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এটা (মামলা) করেছে। অনেক ধরনের হুমকি দিয়েছে। আগামীতে সবকিছু তুলে ধরব। আমার নামে যে মামলা করেছে তাকে চিনি না।

 

এদিন তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন৷ এরপর তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে জামিন পেয়ে তিনি আদালত প্রাঙ্গন ছাড়েন। এসময় উৎসুক জনতা তাকে দেখতে ভীড় জমান।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তানজিন তিশা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজের এডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। ওই সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তানজিল তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন জমা দেন পুলিশ। সেই প্রতিবেদনের আদালত আমলে গ্রহণ করে গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন তানজিন তিশা

পটুয়াখালীর বাউফলের নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব এলাকায় হামলার ঘটনার জামায়াত নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে, হামলার শিকার বিএনপি সমর্থক মাঈনুদ্দিন (২৫) বাদি হয়ে বাউফল থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

 

বুধবার (১২আগস্ট) দুপুরের অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে দ্রুতই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

গ্রেফতার আসামিরা হলেন— চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি সাইফুল শরীফ (৪০), ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সোহাগ হাওলাদার (২৮) ও জামায়াত সমর্থক আল-আমিন (২৮)।

 

পুলিশ জানায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব এলাকার লালচরে মহিষের পাল জেলেদের মাছ ধরার চাই নষ্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের মিমাংসার জন্য সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রায় সাহেব এলাকায় সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠকে মহিষ খামারিদের পক্ষে অবস্থান নেয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে, জেলেদের পক্ষে অবস্থান নেন বিএনপির সমর্থক ভুক্তভোগী মাইনুদ্দিন।

 

সালিশ চলাকালে দু’পক্ষই বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের হামলা চালিয়ে মাঈনুদ্দিন, শাহিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও রানী বেগমসহ ৭ জন আহত করেন।

 

এদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, হামলার মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বাউফলে বিএনপি সমর্থকদের কু/পিয়ে জখম, জামায়াতের ৩ নেতা-কর্মী গ্রেফতার

চাঁদপুরে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে জেলার রেলওয়ে স্টেশনের ছায়াবানী রেল ক্রসিংয়ের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত তায়েবা আক্তার (১৪) চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুদী মাদরাসা রোড এলাকার বিষ্ণুদী ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবার নাম তাজুল ইসলাম ও মা আমেনা বেগম।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি ছায়াবানী রেল ক্রসিং পার হয়ে পূর্ব পাশে পৌঁছালে তায়েবা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

চাঁদপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব কর বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার অভিভাবকেরা থানায় এসেছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চাঁদপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘আমাদের দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় জোট থেকে মনোনীত হয়েছেন আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমরা তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ২০ তারিখে নির্বাচিত করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

 

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান এবং সমর্থক ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।

 

তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট থেকে কর্নেল অলি আহমদও রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। তার পক্ষ থেকেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।ফলে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেন— এ প্রশ্নের উত্তরে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের আর কোনো সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে বলার নেই।’

‘আমরা মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে চাই’

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। তাদের সফলতার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি আশা করেন, তাদের সফর বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা দেবে।

 

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও পরিবেশ প্রয়োজন—এটা তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সি, ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।’

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মেহেরপুরের গাংনীতে এসএসসি পরীক্ষায় টানা দুবার ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর রামিদুজ্জামান টুটুল (১৭) নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের সদস্যদের বকাঝকার পর অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

 

রামিদুজ্জামান টুটুল গাংনী উপজেলার কোদাইলকাটি পশ্চিম পাড়ার মিন্টু হোসেনের ছেলে এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিশাখুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

 

টুটুলের দাদা আনিচ উদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন মাঠে যাওয়ার আগে টুটুলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। আজও সকাল ছয়টার দিকে ডাকতে গিয়ে তাকে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে নামিয়ে দেখা যায়, সে আর বেঁচে নেই।’

 

প্রতিবেশী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘টুটুল এমনিতেই খুব ভদ্র ছেলে। গ্রামের কারও সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করেনি। তবে গত বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। এ বছরও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের লোকজন তাকে কিছুটা বকাঝকা করেছিলেন। এরপর সে অভিমান করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছি।’

 

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মহাসিন আলী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ক্যাম্পের কাছেই কোদাইলকাটি পশ্চিম পাড়ায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেবেন।’

এসএসসিতে ইংরেজিতে দুবার ফেল, বকাঝকার পর সকালে মিলল শিক্ষার্থীর লা/শ

রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ থেকে ১১৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে।

 

রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র ব্যবস্থাপক রবেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য জেলার ১৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে রাজশাহী মহানগরীতেও বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, বুধবার নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১১০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ এ সময়ে ২৮ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে। বৃহস্পতিবারও একই অবস্থা।

 

তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণ পরিবর্তিত হচ্ছে। কখনো চাহিদার পুরো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনো ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তবে মহানগরীতে গড়ে ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

 

এর আগে মঙ্গলবার রাতে মহানগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১১৩ মেগাওয়াট। বর্তমানে মহানগরীতে দিনে-রাতে গড়ে ১৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ১১১ মেগাওয়াট। এতে গড়ে ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে।

 

তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এই ঘাটতিতে মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভও তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রাজশাহীর ১৪ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনে কাছে চিঠি

যশোরের কেশবপুরে এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে কেশবপুর শহরের হাসপাতাল সড়কের খাদ্য গুদামের সামনে মোটরসাইকেল ও আলমসাধুর মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

জানা গেছে, নিহত ওই পরীক্ষার্থীর নাম ইয়াসিন আরাফাত (১৮)। তিনি উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কাঁস্তা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক রুস্তম আলীর ছেলে। তিনি কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন।

 

তিনি জানান, ইয়াসিন সকালে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে কলেজে যাচ্ছিলেন। পথে কেশবপুর শহরের খাদ্য গুদামের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি আলমসাধুর সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়া হয়। তবে অন্য হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

তিনি আরও জানান, ইয়াসিন আরাফাত অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশন থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি উত্তীর্ণ হন। পরীক্ষা দিতে গিয়ে তাঁর এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্রের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্যবহারিক পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল এইচএসসি পরীক্ষার্থীর

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d